Tuesday, August 7, 2012

আনন্দউৎসব - মহিষাসুর পালা ৮

সালটা ছিল ২০০৪, আর পুজোর ঠিক পরেই আমার তখনকার বসের ল্যাপটপে দেখতে পেলাম একটা এ্যানিমেশন ফিল্ম। নাম - মহিষাসুর পালা। সেই থেকেই প্রেমে পড়ে গেলাম। আর এখন পুজোর সময়ের আরো অনেক কিছুর মতই মহিষাসুর পালাটাও আমার অভ্যেসে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেক বছর নতুন এ্যানিমেশনের জন্য অপেক্ষায় থাকি, মনের ভেতরে চলতে থাকে, এবার কোন থিম হবে? আর পুজোর পর মনে হয়, আসছে বছর আবার হবে!
shovon chakraborty mahishasur pala
নারদ আর মহিষাসুরের খুনসুটি, আর সবশেষে দেবীর আগমন। আর যুদ্ধ শুরু করতে গিয়েই হয়তো হলো বিপত্তি। হঠাৎ অসুরের মোবাইলে পারসোন্যাল লোনের জোগানদার ললনার ফোন। লোন না লাগলে ক্রেডিট কার্ড দিতেও রাজি। আর বিরক্ত অসুরের কথায় ঝরেপড়া বিরক্তি, "...আমার কিচ্ছু চাই না!" এদিকে দুর্গার নজরে পড়লো অসুরের মোবাইল সেট, "এ্যাই অসুর, তোর মোবাইলটা কোন মডেলের রে?" নাঃ, এটা এই নীচের লিঙ্কে নেই। এটা ঘটেছিল তার আগেরবার, মহিষাসুর পালা ৭ এর সময়! নীচের লিঙ্কটা গতবছরের, অর্থাৎ ২০১১ এর পুজোয় বেরোনো মহিষাসুর পালা ৮ এর।
mahishasur pala anandautsav
মহিষাসুর পালা | মহিষাসুর পালা ৮ - আনন্দউৎসব
মহিষাসুর পালা ৭, আনন্দউৎসব, শোভন চক্রবর্তী
মহিষাসুর পালা ৭, আনন্দউৎসব, শোভন চক্রবর্তী

Saturday, July 28, 2012

বেশ চলছে

এক

আজকাল রাতে আর ভালো ঘুম হয় না,
বোধহয় ঘুমেরাও ছেড়ে চলে গেছে।
অনেক বছর আগে, যখন ছোট্টটি ছিলাম,
বেশ শান্তিতেই ঘুমোতাম, আর
স্বপ্নে দেখতাম বড় হয়ে গেছি।
ওটা যে আসলে দুঃস্বপ্ন ছিলো,
তা তো কেউই বলেনি!
তখন না বুঝলেও, আজকে হাড়েহাড়ে জানি,
বড় হওয়াটা কোনও কাজের নয়।

ইন্ডিয়া অর্থাৎ ভারত

ভারতবর্ষ! এক অদ্ভুত দেশ। দেশই শুধু নয়, একে উপমহাদেশ বলেও অভিহিত করা হয়। এই দেশে অনেক কিছুই আছে। আর তার উলটো পিঠে না থাকার ঘরও মোটামুটিভাবে কানায় কানায় ভরা। ভারতের সংবিধানে সবপ্রথমেই দেশের নাম সম্বন্ধে বলা হয়েছে - "India, that is Bharat" - অর্থাৎ, দেশের নামটা হলো ইন্ডিয়া, মানে ভারত। সমস্যাটা হলো যে এই দেশে আজকাল দু-ধরণের নাগরিক সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দল, ইণ্ডিয়ান আর দ্বিতীয় দল, ভারতীয়। এই দু-ধরণের লোককে চিনতেও কারুরই অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। ইণ্ডিয়ানদের চেহারা-চরিত্তির দেখলেই বোঝা যায় যে এনারা বেশ রসেবসেই আছেন। এদের বেশ নাদুসনুদুস, গোলগাল, তেল-চিকচিকে চেহারা, পকেটের মানিব্যাগে রকমারি কার্ড, গোটাদুয়েক মোবাইল ফোন ইত্যাদি থাকে। এরা শপিং মলে শপিং করতে যান। বাজারে একটু "মার্কেটিং" করতে যান আর, মোটামুটি সবসময়ই এরা যানের ওপরেই থাকেন। খুব কদাচিৎ, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, এর হাঁটতে বেরোন। এরা ছাড়াও এই দেশেই আরেক ধরণের লোকও দেখতে পাওয়া যায়। এরা হলেন ভারতীয়। এদের চেহারা, সাজপোষাক ইণ্ডিয়ানদের মতন অতো চকচকে নয়, বরং বেশ মলিনই বলা যায়। কথাবার্তায়ও এরা পিছিয়ে, মানে বেশীরভাগ সময়ই নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলে থাকেন। এরাও মাঝেমধ্যে শপিংমলে যান। তবে "শপিং" করতে নয়, বেড়াতে অথবা কোন কাজে, যেমন ইলেকট্রিকাল ওয়ারং বা সাফাই এর কাজ।

Tuesday, July 10, 2012

সত্যমেব জয়তে, আমির খান এবং ভারতীয় সমাজ

টেলিভিশনের জন্মের পর থেকেই এই মাধ্যমকে অনেকেই বোকা বাক্স হিসেবে মনে করেন। আর আজকের দিনে, যখন ভারতে ছ'শোর বেশী চ্যানেল সম্প্রচারিত হচ্ছে, তখন এই বিশেষণকে খুব একটা ভুলও বলা যায় না, বিশেষতঃ বেশীর ভাগ চ্যানেলেই শ্বাশুড়ি-বৌমা, পারিবারিক কলহ ইত্যাদি নিয়ে যখন একের পর এক সিরিয়াল বা "মেগা" চলতেই থাকে। সংবাদ পরিবেশনকারী চ্যানেলগুলোও টিআরপি (জনপ্রিয়তার মাপকাঠি) বাড়ানোর চক্করে একের পর এক "ব্রেকিং নিউজ" বানাতেই থাকে। এর ফলটা এই হয় যে, যেকোন ঘটনাকেই চ্যানেলের মাধ্যমে sensationalize করে জনগণকে খাইয়ে দেওয়া হয়, আর দর্শকরাও নিউজস্টোরিকে বিনোদনের এক অংশ বলেই মনে করেন।

এরকম একটা অবস্থায় হঠাৎ শুনতে পাওয়া গেলো যে আমির খানও নাকি ছোট পর্দায় আসছেন। ব্যাস, সাথেসাথেই হইচই আরম্ভ হয়ে গেলো। মিডিয়ার লোকেরা নিত্যনতুন খবর দিতে আরম্ভ করলেন এই সিরিয়াল নিয়ে। কিছুদিন পরে জানা গেলো যে সিরিয়ালটার নাম "সত্যমেব জয়তে", অর্থাৎ সত্যের জয় সর্বত্র। বলা হলো যে এটা একটা "রিয়ালিটি শো", অর্থাৎ বাস্তবিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত। আর এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ভারতের সমাজ ব্যবস্থায় এবং ভারতীয়দের রোজকার জীবনে চলতে থাকা সামাজিক ব্যাধিগুলোকে নির্মূল করা।

সত্যমেব জয়তের সাথে যেহেতু আমির খান যুক্ত, তাই অনেকেরই আশা ছিলো যে এটা কোন গিমিক বা শস্তা প্রচারের লোভে করা অনুষ্ঠান হবে না। সত্যমেব জয়তে, সত্যি সত্যিই ভারতীয় সমাজে একটা পজিটিভ বদল আনবে বলে মনে করা হচ্ছিলো। প্রথম দিকের এপিসোডগুলোর জনপ্রিয়তা দেখে ও অনুষ্ঠানের ফলে অনেক রাজ্য সরকারও নড়েচড়ে বসায় এই আশা আরো উজ্জ্বল হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অনুষ্ঠান তার জনপ্রিয়তা আর ধরে রাখতে পারে নি। তবুও, এই অনুষ্ঠানের ফলে অনেকগুলো সামাজিক ব্যাধি এবং বে-আইনি কার্য্যকলাপের কথা সমাজ ও সাধারণ লোকের চোখের সামনে এসে পড়ে। আমির খান, তার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সমাজের একদম সাধারণ শ্রেণীর লোকেদের মধ্যেও যেভাবে এই সামাজিক ক্ষতগুলোকে তুলে ধরেছেন, সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়।

Friday, June 29, 2012

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক আর কতো তলিয়ে যাবে?

জকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে তিন-চারটে খবর দেখতে পেলাম। কোনওটাই ভালো খবর নয়। এবং সবকটা খবরকে এক সাথে মিলিয়ে দেখলে যে ছবিটা ভেসে ওঠে, সেটা যথেষ্ট পরিমাণে চিন্তার উদ্রেককারী।
ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক
এক, গাইঘাটায় এক স্কুলের শিক্ষিকা ক্লাস সেভেনের এক ছাত্রী লেগিংস পরে স্কুলে এসেছিলো বলে তাকে শাস্তি দিলেন। কিভাবে? এক কো-এডুকেশন স্কুলে, ঘরভর্তি ছাত্র এবং ছাত্রীদের সামনে, তিনি মেয়েটির লেগিংস খুলে নিজের কাছে রেখে দিলেন। এরপর, ছাত্রী এবং তার বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, মেয়েটি ঐ অবস্থায়ই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয় এবং বাড়ি পৌঁছেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এরপর যথারীতি টিভি চ্যানেল ওখানে পৌঁছে যায় এবং ব্রেকিং নিউজ দিতে থাকে। শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?
স্কুলে ছাত্রছাত্রী নির্যাতন
দুই, কলকাতার নামী স্কুল সাউথ পয়েন্টের ঘটনা। সহপাঠীদের হাতে মার খেয়ে ক্লাস ওয়ানের বাচ্চা ছেলে স্কুলের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্কুল কর্তৃপক্ষ কি করলেন? কিসসু না! ছেলেটার মা-বাবাকেও খবর দেওয়াটা দরকারী বলে ওরা মনে করেন নি। বাচ্চা ছেলেটা বাড়ি পৌঁছোনোর পর তার বাবা-মা সবকিছু জানতে পান এবং শেষে তারা গড়িয়াহাট থানায় একটা এফ আই আর দায়ের করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ এতোটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হন কিভাবে?
শিক্ষক উপরে হামলা
তিন, আরামবাগের কাছাকাছি একটা জায়গায় টুকতে বাধা দেওয়ায় পরীক্ষার্থী ছাত্রের হাতে প্রহৃত হলেন শিক্ষক। তিনি অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে এফ আই আর দায়ের করেছেন। এখানে দেখার বিষয়, ছাত্রের আদৌ কোনও শাস্তি হয় কি না!

Monday, June 25, 2012

সিলেটি রামায়ণ

জ্ঞে হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। আমি সিলেটি রামায়ণের কথাই বলছি। আরো প্রশ্ন আপনার মাথায় আসতেই পারে। যেমন, হঠাৎ ধর্মে-কর্মে আমার মতিগতি হলো নাকি? বা, সিলেটি রামায়ণ জিনিসটা কি? একটু ধৈর্য ধরুন, সবই বলছি।
sylheti language
অনেকেই জানেন যে অধুনা বাংলাদেশের অন্তর্গত শ্রীহট্ট বা সিলেট জেলার পরিধি স্বাধীনতার আগে আরো বেশী ছিলো। সিলেটের একটা অংশ আসামের অন্তর্ভুক্ত হয়। বেশীরভাগই থেকে যায় পূর্ব পাকিস্তানে এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশে। এই সিলেট অঞ্চলের লোকেরা যে ভাষায় কথা বলেন সেটাকেই সিলেটি ভাষা বলা হয়। সিলেটির সাথে লেখার জন্য যে স্ট্যাণ্ডার্ড বাংলা ব্যবহৃত হয়, তার ফারাক অনেক। এমনকি, অনেক বাংলাভাষী লোকের পক্ষে এই ভাষাটা বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে। আবার বাংলা ভাষার একটা ডায়ালেক্ট হওয়া সত্বেও অসমিয়া ভাষার সাথে সিলেটির  অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। 
sylheti Ramayan
এই সিলেটি ভাষার নিজস্ব লিপিও ছিলো। সেই লিপির নাম ছিলো সিলেটি নাগরী এবং এটাতে দেবনাগরী লিপির যথেষ্ট প্রভাব ছিলো। কালক্রমে এই সিলেটি নাগরী লিপির প্রসার কমতে কমতে একসময় এর অবলুপ্তি ঘটে। আজকের দিনে সিলেটি ভাষা বাংলা লিপিতেই লেখা হয়। এই সিলেটি ভাষাভাষী লোকেদের বিরাট একটা অংশ বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে, ভারতের বরাক উপত্যকার তিন জেলা - কাছাড়, করিমগঞ্জ এবং হাইলাকান্দি, শিলং শহরে এবং ইংল্যাণ্ডে থাকেন। ইংল্যাণ্ড এবং বাংলাদেশের সিলেটিদের একটা অংশ আবার সিলেটিকে একটি স্বতন্ত্র ভাষার মর্যাদা দেওয়ার জন্য দাবী জানিয়ে আসছেন বেশ কিছুদিন ধরে।
sylheti nagari
যাইহোক, সিলেটি ভাষায় কোন এককালে রামায়ণও লেখা হয়েছিল। সবথেকে বড় কথা, এই রামায়ণের রচয়িতা ডাঃ সুন্দরীমোহন দাস, পুরো মহাকাব্যটাকে মাত্রই আটত্রিশ লাইনে ধরেছেন। যাকে বলে পরিবেশ বান্ধব রচনা। এই সিলেটি রামায়ণটাই এখানে তুলে দিলাম। পড়ে দেখুন বুঝতে পারেন কি না। আর অতি অবশ্যই কেমন লাগলো সেটা জানাতে ভুলবেন না।

Thursday, May 17, 2012

শিক্ষা, অশিক্ষা, কুশিক্ষা এবং কি শিক্ষা?

দিন আগে থেকেই আমাদের ছোটকালে শোনা একটা কথা মনে পড়ছিলো। অনেকেই বলতেন যে আগের দিনের - ম্যাট্রিক পাশের ভ্যালু নাকি আজকালের গ্র্যাজুয়েটের থেকে বেশী। তা আগের দিন বলতে কোন সময়টাকে বোঝায়। একটু বেশী বয়সিদের কাছে আগের দিনের মানে ধরে নিন ঐ বৃটিশ আমল-টামল কিছু একটা হবে। তার থেকে একটু কমবয়সী এবং যারা সাহেবদের কাছে পড়ার সুযোগ পান নি, তাদের কাছে আগের দিন মানে হলো ঐ ১৯৪৭ থেকে শুরু করে পনেরো-কুড়ি বছর আগে পর্যন্ত সময়কালটা। তবে, একটা জিনিসে এরা সবাই একমত হতেন যে পড়াশুনোর সিস্টেমটা জাহান্নামে গেছে। আজকাল নাকি কথায় কথায় সবাই লেটার মার্কস (মানে আশি শতাংশ) পেয়ে যায়, অথচ জ্ঞানের বেলায় নাকি ঢুঢু।

তা কথাটা মনে পড়ার কারনটা হলো যে কোনও এক জায়গায় আমিও মোটামুটি ওরকমই কিছু একটা বলে বসেছি। তারপর থেকেই ভাবছিলাম, এতো তাড়াতাড়ি আমাকেও এই দোষে পেয়ে গেলো নাকি রে বাবা। অবশেষে স্টেটমেন্টটা ভালো ভাবে দেখে চিন্তামুক্ত হলাম। নাঃ, আমি আমাদের সময়ে সবই ভালো ছিলোর রোগে আক্রান্ত হই নি। অন্ততঃ এখনো। আমি গোটা শিক্ষাব্যবস্থাটাকেই অকর্মার ঢেঁকি বলে মনে করছি, আর এর মধ্যে কোনও স্থান-কালের ভেদাভেদ নেই। হঠাৎ করে এতো জেনারেলাইজড কথা কেনো বললাম? সেটা বলার জন্যেই এই লেখা।

২০০৬-০৭ সাল নাগাদ বিখ্যাত ম্যাকিনসি কোম্পানি বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর একটা রিপোর্ট বের করেছিল। ঐ রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রাজুয়েটদের মধ্যে মাত্র পঁচিশ শতাংশ, জেনারেল গ্রাজুয়েটদের মাত্র দশ শতাংশ আর ফিনান্স গ্রাজুয়েটদের পনেরো শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী এমপ্লয়েবল, অর্থাৎ কিনা যাদের সোজাসুজি কাজ করতে নামিয়ে দেওয়া যায়। বাকিদের মধ্যে আরো ষাট থেকে সত্তর শতাংশকে উপযুক্ত ট্রেনিং দিয়ে কাজের বাজারের উপযোগী করে তোলা যায়। আর সব শেষের পাঁচ থেকে দশ শতাংশকে দিয়ে কোনও কাজই হবে না বলে ওই রিপোর্টে লেখা হয়।

Share