আজ্ঞে হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। আমি সিলেটি রামায়ণের কথাই বলছি। আরো প্রশ্ন আপনার মাথায় আসতেই পারে। যেমন, হঠাৎ ধর্মে-কর্মে আমার মতিগতি হলো নাকি? বা, সিলেটি রামায়ণ জিনিসটা কি? একটু ধৈর্য ধরুন, সবই বলছি।
sylheti language
অনেকেই জানেন যে অধুনা বাংলাদেশের অন্তর্গত শ্রীহট্ট বা সিলেট জেলার পরিধি স্বাধীনতার আগে আরো বেশী ছিলো। সিলেটের একটা অংশ আসামের অন্তর্ভুক্ত হয়। বেশীরভাগই থেকে যায় পূর্ব পাকিস্তানে এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশে। এই সিলেট অঞ্চলের লোকেরা যে ভাষায় কথা বলেন সেটাকেই সিলেটি ভাষা বলা হয়। সিলেটির সাথে লেখার জন্য যে স্ট্যাণ্ডার্ড বাংলা ব্যবহৃত হয়, তার ফারাক অনেক। এমনকি, অনেক বাংলাভাষী লোকের পক্ষে এই ভাষাটা বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে। আবার বাংলা ভাষার একটা ডায়ালেক্ট হওয়া সত্বেও অসমিয়া ভাষার সাথে সিলেটির অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
sylheti Ramayan
এই সিলেটি ভাষার নিজস্ব লিপিও ছিলো। সেই লিপির নাম ছিলো সিলেটি নাগরী এবং এটাতে দেবনাগরী লিপির যথেষ্ট প্রভাব ছিলো। কালক্রমে এই সিলেটি নাগরী লিপির প্রসার কমতে কমতে একসময় এর অবলুপ্তি ঘটে। আজকের দিনে সিলেটি ভাষা বাংলা লিপিতেই লেখা হয়। এই সিলেটি ভাষাভাষী লোকেদের বিরাট একটা অংশ বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে, ভারতের বরাক উপত্যকার তিন জেলা - কাছাড়, করিমগঞ্জ এবং হাইলাকান্দি, শিলং শহরে এবং ইংল্যাণ্ডে থাকেন। ইংল্যাণ্ড এবং বাংলাদেশের সিলেটিদের একটা অংশ আবার সিলেটিকে একটি স্বতন্ত্র ভাষার মর্যাদা দেওয়ার জন্য দাবী জানিয়ে আসছেন বেশ কিছুদিন ধরে।
sylheti nagari
যাইহোক, সিলেটি ভাষায় কোন এককালে রামায়ণও লেখা হয়েছিল। সবথেকে বড় কথা, এই রামায়ণের রচয়িতা ডাঃ সুন্দরীমোহন দাস, পুরো মহাকাব্যটাকে মাত্রই আটত্রিশ লাইনে ধরেছেন। যাকে বলে পরিবেশ বান্ধব রচনা। এই সিলেটি রামায়ণটাই এখানে তুলে দিলাম। পড়ে দেখুন বুঝতে পারেন কি না। আর অতি অবশ্যই কেমন লাগলো সেটা জানাতে ভুলবেন না।